500 miles and beyond

সিল্ক রুট

on Nov 17, 2017

 

কিছুদিন যাবৎ ভ্রমণপিপাসু মানুষদের কাছে বেড়াতে যাবার জন্য এই নামটি খুবই জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। এই সিল্ক রুটের ইতিহাস আছে। সিল্ক রুটের বাংলা তর্জমা করলে যা পাই তা হলো রেশম পথ। এই নামকরণ কেন? আমরা অনেকেই বলি এই পথে ভারত-চীনের মধ্যে সিল্ক মানে রেশমের ব্যবসা হতো। এটা আংশিক ঠিক। যে পথে আমরা চার রাত বা পাঁচ রাত ভ্রমণের জন্য কাটাতে যাবো সেই রাস্তার ইতিহাস একটু খতিয়ে দেখা যাক।
প্রথমেই জানাই যে মূল রেশম পথ বা সিল্ক রুটের কোন অস্তিত্ব আজ আর নেই। ভ্রমণসংস্থাগুলো ‘ওল্ড সিল্ক রুট’-এর গুল্পো ছেড়ে ব্যবসা করে মাত্র। আমরা মানে ‘পর্যটক’ সেই গুল্পোতে বিশ্বাস নই বলে এই পথের সামান্য ইতিহাসটা তুলে ধরতে চাই।
এই রেশম পথ বা আমাদের বেড়ানোর সিল্ক রুট আসলে এশিয়ার উপমহাদেশীয় অঞ্চলগুলো মধ্য দিয়ে পূর্ব ও পশ্চিম এশিয়া, ইউরোপ ও ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলকে সংযুক্ত করে একটি প্রাচীন বাণিজ্যিক পথ ছিল। এই পথের সৃষ্টি আজ থেকে ২০০০ বছর আগে। যীশুখ্রীস্ট জন্মানোর প্রায় ২০০ বছর আগে তখন চীনে হান বংশের রাজত্বকাল। ইতিহাসের পাতায় লেখা আছে এই সময় চীনের স্বর্ণযুগ। যাইহোক, এই সময় চীনের পশ্চিমে মঙ্গোলিয়ান যাযাবরেরা খুব ঝামেলা বা আক্রমন করতো। তখনকার হান বংশের রাজা ইউদি মঙ্গোলিয়ান যাযাবরদের সাথে সমঝোতা করার জন্য ঝাং কিয়ান নামে এক রাজ কর্মচারীকে পাঠান। কিন্তু মঙ্গোলিয়ান যাযাবররা ঝাং কিয়ানকে বন্দী করে রেখে দেয়। কিছু দিন পর ঝাং কিয়ান পালাতে সক্ষম হন। মধ্য এশিয়ার বিভিন্ন পথ ঘুরে ঝাং কিয়ান চীনে এসে পৌঁছান। তাঁর মধ্য এশিয়ার বিভিন্ন তথ্য থেকে এক ব্যানিজিক সম্ভবনার সৃষ্টি হয়। আর তাঁর ফিরে ফিরে আসা পথের বিবরণ থেকেই যে পথের সৃষ্টি হয় তাই আমাদের বেড়াতে যাবার পথ ‘সিল্ক রুট’ বা ‘রেশম পথ’। আমাদের অনেকেরই ধারণা এই প্রায় ৪০০০ মাইল(৬৫০০ কি.মি.) দীর্ঘ এই পথের নামকরণ করা হয়েছে চীনা সিল্ক ব্যবসার নামে। যদিও সিল্কই ছিল প্রধান পণ্য, অন্যান্য নানা পণ্যও এই পথে আনা-নেওয়া করা হত। চীনা, ভারতীয়, ফার্সী,আরব ও ইউরোপিয় সভ্যতার উন্নয়নে এই বাণিজ্য পথের বিশাল প্রভাব ছিল। কিন্তু তা সম্পূর্ন ঠিক নয়। এই পথের মূল ব্যবহার ছিল কিন্তু প্রতিরক্ষার জন্য। আরো একটি বিষয় বানিজ্য ছাড়াও বিশ্বের প্রধান প্রধান ধর্মগুলি ছড়িয়ে পড়েছিল-পুব থেকে পশ্চিমে-পশ্চিম থেকে পুবে। ধর্মপ্রচারক ও ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে বৌদ্ধধর্ম, খ্রিষ্টানধর্ম, মনিবাদ (Manichaeism) এবং ইসলাম ছড়িয়ে পড়েছিল; মিশনারিরা বানিজ্য কারাভানে যোগ দিতেন। এশিয়ায় নতুন ধর্মের উদ্ভব ও প্রসার রেশমপথের বণিকদের ওপরই নির্ভরশীল ছিল। চীন দেশ থেকে এই পথ ধরে রেশম ভারতসহ পৃথিবী অনান্য দেশে ছড়িয়ে পড়তো। আবার কেউ কেউ বলেন তাম্রলিপ্ত থেকে রেশম যেত তিব্বতে। যদিও দ্বিতীয় তথ্যের তেমন কোন ভিত্তি আমি খুঁজে পাই নি। পদমচেনের কাছে পুরোনো রেশম পথে ভগ্ন চিহ্ন দেখা যায়। এইখানেই আছে ৫০০ বছরের একটি মনিস্ট্রি। ভ্রমণকারীদের জন্য মনে হয় এইটুকুই যথেষ্ট। আরো একটা কথা বলে রাখি যে এই সিল্ক রুট শুরু কিন্তু আসলে রংপো থেকে যেখান যেখান থেকে আপনাকে সিকিম ঢোকার পারমিট নিতে হচ্ছে। আমরা যে সিলারি গাঁও বা আরিতার ইত্যাদি যেখানে থাকি তা কিন্তু পশ্চিমবঙ্গে। রংপো যেতে এই জায়গাগুলো পড়ে আর এই জায়গাগুলো খুবই সুন্দর। তাই এদের সিল্ক রুটের যাত্রাপথে জুড়ে দেওয়া। এছাড়াও অনেকটা পাহাড়ি পথ একসাথে অতিক্রম করার ধকল এড়ানোর জন্যও এইখানে থাকাটা স্বাভাবিক।
এইখানে কে বা কারা কীভাবে যাবে সেটা সম্পূর্ণ তাদের ইচ্ছানুযায়ী। এইখানে সেইভাবে কোন হোটেল নেই। সবই হোম স্টে।
এই সিল্ক রুট যদি যেতে চান আমাদের সাথে মানে পর্যটক-এর ব্যবস্থাপনায় চলুন।
আমাদের যাত্রাশুরু ১৬ মার্চ। ৪ রাত ৫ দিনের সফর।
বিস্তারিত জানার জন্য যোগাযোগ করুন।
Shamal Chatterjee

Email : shyamal_chatterji@yahoo.co.in

500 Miles and Beyond

৯৮৩০২২৬৩৫৭

৯৬৮১৪০৭২৪৬

on Nov 17, 2017 By - 500miles nbeyond

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Recent posts

Top