500 miles and beyond

সিল্ক রুট – শেষ পর্ব ( শ্যামল চ্যাটার্জি )

on Nov 21, 2017

 

জায়গার নাম ঋষি। আর নদীর নাম ঋষিখোলা। ১৭০০ ফুট উচ্চতায় ঋষি। ঋষির আসল আকর্ষণ অপার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য। এন জি পি থেকে এর দূরত্ব প্রায় ৯৫ কিলোমিটার। এখান থেকে যাওয়া যাক জুলুক। প্রায় ১০০০০ ফুট উচ্চতায় জুলুক। ভারত-চিনের আন্তর্জাতিক সীমান্ত খুব কাছে হওয়ায় এই পথে সেনাবাহিনীর তদ্বির তদারক ও নজরদারি প্রখর। তাই এখানে সেনাদের একটু বাড়াবাড়ি। জুলুক আসলে একটা ছোট্ট জনপদ। খুব অল্প সংখ্যক লোকের বাস। আমরা অনেকেই জুলুক বলতেই বুঝি ‘জিগ জাগ রোড’। যদিও জুলুক থেকে এই রাস্তা দেখা যায় না। অনেকটা উপরে গিয়ে এই ‘জিগ জাগ রোড’ দেখা যায়। জুলুকে অগস্ট-সেপ্টেম্বরে ফুলের দাঙ্গা লাগে। রংবাহারি ফুলে ছয়লাপ থাকে সে সময় জুলুক। আর এই সময়টা জানুয়ারি থেকে এপ্রিল জুলুক বরফের সংসার। আর এখান আছে একটা নাগমন্দির। হিন্দুপুরাণের নাগদেবতা তথা কিং কোবরার পুজো হয় গুহাসদৃশ এই নাগমন্দিরে। জুলুক ছাড়িয়ে থাম্বি সানরাইজ পয়েন্ট ছুঁয়ে নাথাং উপত্যাকা, টুকলা উপত্যাকা, পুরোনো বাবা মন্দির, কুপুপ ইত্যাদি ঘুরে অনেকেই জুলুক থাকেন।
আমার মানে পর্যটক-এর সাজেশন নাথাং থাকার। কেন, পরে জানাচ্ছি। আগে নাথাং সম্পর্কে কিছু বলি। এখানে রয়েছে ব্রিটিশ সিমেটেরী । বেশ কিছুটা উঁচুতে থাকা, পাথরে বাধানো ছোট্ট কবর স্থানটি রেলিং দিয়ে ঘেরা । প্রায় দশটি সিঁড়ির ধাপ অতিক্রম করেই সেখানে পৌছতে হয় । উপরে উঠেই দেখি সুন্দর ভাবে সাজানো প্রায় দশ-বারোটা কবর. সমগ্র ভ্যালির শোভা এখান থেকে আরো সুন্দর দেখায় । তবে তীব্র হওয়ার দাপটে বেশিক্ষণ থাকতে পারলাম না, চললাম ভ্যালির মাঝে থাকা ছোট মাঠটির দিকে । যাওয়ার পথে চোখে পড়ল রাস্তার দুপাশে সুন্দর ভাবে সাজানো ছোট ছোট টিনের ঘর । প্রতিটি ঘরের সামনে রযেছে চিমনির মতো ছোট প্রদীপ জ্বালাবার স্থান । যার পাশে লেখা ফ্রি টিবেট । প্রতিটি বাড়িতেই দেখা মেলে লোমওয়ালা ছোট ছোট কুকুরের। আর এখানে যেখানে থাকবেন সেখানের নৈশভোজ স্মরণীয় হয়ে থাকবে। ফায়ার প্লেস ঘিরে খাওয়া। আর ঠান্ডায় গেলে প্রাতঃরাশ থেকে নৈশভোজ সবই ওই ফায়ার প্লেসের ধারেই সারতে হবে। আরেকটা কথা ঠান্ডার সময় গেলে কখনই বাথরুমের কল বন্ধ করবেন না। জল শেষ হবে না। কিন্তু বন্ধ করে দিলেই বিপত্তি ঘটতে পারে। কারণ জলের পাইপের জল ঠান্ডায় জমে বরফ হয়ে যায়। জলের প্রবাহ থাকলে জল জমতে পারে না। এখান থেকে সূযাস্তর দৃশ্য অপূর্ব। এবার বোঝা গেছে কেন নাথাং থাকবো। আরো একটা কারন আছে। যদি ভোর চারটেয় উঠে ‘টুকলা’ ভিউ পয়েন্টে কাঞ্চনজন্ঘায় সূর্যোদয় দেখে যদি আবার নাথাং না ফেরা হয়। তাহলে কিছুটা অর্থ সাশ্রয়। আর ভোরের সূর্যোদয় না দেখলে সিল্ক রুট ভ্রমণই বৃথা। বাবা মন্দির ঘিরে নানান কথা ছড়িয়ে আছে। ভারত-চীন সীমান্তের গুরুত্বপূর্ন জায়গা এটি। এখানে পাঞ্জাব রেজিমেন্টের হরভজন সিং এখানে দায়িত্বে ছিলেন। ঘটনা চক্রে হরভজন সিং ওখানকার লেকের জলে পড়ে তার মৃত্যু হয়। তারপর তাকে ঘিরে নানান কথা শুরু হয়। উনি যে ব্যাঙ্কারের ছিলেন সেটিই মন্দির হিসেবে মনে করা হয়। তার ব্যবহৃত জিনিষ সেখানে রাখা আছে। এরপর কুপুপ লেক। সিকিমের মানুষ বলে ‘বিচান চো’। কুপুপ লেকের বৈশিষ্ট হলো ডান দিকটা হাতির শুঁড়ের মতো আর বাঁদিক হাতির লেজের মত। এই পথেই দেখতে পাবেন ১৩,০২৫ ফুট উচ্চতায় পৃথিবীর উচ্চতম ইয়াক গল্ফ কোর্স। ১৮টি গলফ গর্ত সমেত এই গলফ ময়দানটি ভারতীয় গলফ ইউনিয়ন স্বীকৃত একটি সংস্থা সেই ১৯৮৫ সাল থেকেই। গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ডেও নথীভুক্ত হয়ে গেছে। এরপর বাবা মন্দিরের কথা।
সিল্ক রুট নিয়ে আমার মানে পর্যটক-এর কথা আপাতত শেষ।

সিল্ক রুট যদি আপনার আগামী গন্তব্য হয় তবে যোগাযোগ করুন –

Shyamal Chatterjee
500 Miles and Beyond
9681407246
on Nov 21, 2017 By - 500miles nbeyond

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Recent posts

Top